বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসন সম্পর্কে জানতে গেলে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তর এই তিনটি শব্দ খুবই পরিচিত। সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তি, প্রজ্ঞাপন, নীতিমালা, বাজেট, নাগরিক সেবা কিংবা সরকারি ওয়েবসাইটে শব্দগুলো নিয়মিত দেখা যায়। নামগুলো কাছাকাছি মনে হলেও প্রশাসনিক কাঠামোতে এগুলোর অবস্থান, দায়িত্ব এবং কাজের ধরন এক নয়। কোন প্রতিষ্ঠান নীতি নির্ধারণ করে, কোনটি একটি বড় কর্মক্ষেত্রকে আলাদাভাবে পরিচালনা করে এবং কোনটি মাঠপর্যায়ে সেই নীতি বাস্তবায়নে কাজ করে এই পার্থক্য বুঝলেই বিষয়টি অনেক সহজ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তিগুলোর একটি হলো রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬। এটি বাংলাদেশের সংবিধানের ৫৫(৬) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে প্রণীত। সরকারি কাজ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে কীভাবে বণ্টিত ও পরিচালিত হবে, তার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি এই বিধিমালায় পাওয়া যায়। বিধিমালাটি সময়ে সময়ে সংশোধিত হতে পারে, তাই নির্দিষ্ট প্রশাসনিক তথ্যের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশিত সংস্করণ দেখা উচিত।
এই নিবন্ধে প্রশাসনিক কাঠামোটিকে শুধু সংজ্ঞার মাধ্যমে নয়, বাস্তব উদাহরণ ও নাগরিকের দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ফলে সরকারি চাকরিপ্রার্থী, শিক্ষার্থী, সাধারণ নাগরিক কিংবা প্রশাসন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী যে কেউ সহজে বুঝতে পারবেন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের মধ্যে মূল পার্থক্য কোথায়।
মন্ত্রণালয় বলতে কী বোঝায়?
মন্ত্রণালয় হলো সরকারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামো, যার অধীনে নির্দিষ্ট খাত বা বিষয়ের নীতি প্রণয়ন, পরিকল্পনা, সমন্বয় ও প্রশাসনিক তদারকির কাজ পরিচালিত হয়। যেমন শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য খাতের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং কৃষি মন্ত্রণালয় কৃষি খাতের বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।
সহজভাবে বললে, একটি মন্ত্রণালয়ের কাজ শুধু সরাসরি নাগরিক সেবা দেওয়া নয়। বরং সংশ্লিষ্ট খাতে সরকার কী করতে চায়, কোন নীতি অনুসরণ করবে, কী ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করবে এবং অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে কাজ করবে এসব উচ্চপর্যায়ের বিষয় মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট দায়িত্ব একই নয়; সংশ্লিষ্ট কার্যবণ্টন অনুযায়ী তা নির্ধারিত হয়।
বিভাগ কী এবং এর প্রয়োজন কেন?
সরকারি প্রশাসনে বিভাগ বলতে সাধারণত নির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মক্ষেত্র পরিচালনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক একক বোঝানো হয়। একটি মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি বিস্তৃত হলে তার আওতায় একাধিক বিভাগের মাধ্যমে পৃথক কর্মক্ষেত্রের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে। তবে সব মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক বিভাগ থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
উদাহরণ হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ রয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ রয়েছে। ফলে একই বিস্তৃত খাতের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র পৃথক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা সম্ভব হয়। জাতীয় তথ্য বাতায়নে মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং তাদের অধীনস্থ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া যায়।
অধিদপ্তর বলতে কী বোঝায়?
অধিদপ্তর সাধারণত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতায় নির্দিষ্ট সরকারি কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি বিশেষায়িত প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন অধিদপ্তর নিজ নিজ নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, কারিগরি কার্যক্রম, তদারকি, প্রশাসনিক কাজ বা নাগরিকসংশ্লিষ্ট সেবা পরিচালনা করতে পারে। তবে প্রতিটি অধিদপ্তরের দায়িত্ব ও সাংগঠনিক অবস্থান এক নয়; সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি, কার্যবণ্টন ও সরকারি সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে তা নির্ধারিত হয়।
উদাহরণ হিসেবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর রয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অধীনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং কৃষি বিপণন অধিদপ্তর রয়েছে। অর্থাৎ অধিদপ্তরের কাজ সাধারণত নির্দিষ্ট একটি কার্যক্ষেত্রে বেশি বিশেষায়িত ও বাস্তবায়নকেন্দ্রিক।
মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের মূল পার্থক্য
তিনটির পার্থক্য বোঝার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নীতি, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়ন এই তিনটি স্তর আলাদা করে দেখা। সাধারণভাবে মন্ত্রণালয় বৃহত্তর খাতের নীতি ও প্রশাসনিক দিকনির্দেশনার সঙ্গে যুক্ত। বিভাগ সেই বৃহত্তর খাতের নির্দিষ্ট অংশের প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয় করতে পারে। অন্যদিকে অধিদপ্তর সাধারণত নির্দিষ্ট সরকারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন, কারিগরি কাজ, তদারকি বা সেবা প্রদানের সঙ্গে বেশি সরাসরি যুক্ত।
| বিষয় | মন্ত্রণালয় | বিভাগ | অধিদপ্তর |
|---|---|---|---|
| প্রশাসনিক অবস্থান | উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামো | নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক একক | সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান |
| সাধারণ ভূমিকা | নীতি, পরিকল্পনা ও সমন্বয় | প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় | বাস্তবায়ন ও বিশেষায়িত কার্যক্রম |
| কাজের পরিধি | তুলনামূলক বিস্তৃত | নির্দিষ্ট খাত বা উপখাত | আরও নির্দিষ্ট কার্যক্রম |
| উদাহরণ | শিক্ষা মন্ত্রণালয় | মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ | মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর |
একটি বাস্তব উদাহরণে পুরো কাঠামো
শিক্ষা খাতের উদাহরণ নিলে পার্থক্যটি পরিষ্কার হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় হলো বৃহত্তর মন্ত্রণালয়। এর অধীনে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ রয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে আবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর এবং পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর রয়েছে। অন্যদিকে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর রয়েছে।
এই উদাহরণটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে একই সঙ্গে তিনটি স্তর দেখা যায়। মন্ত্রণালয় বৃহত্তর শিক্ষা খাতকে ধারণ করছে, বিভাগগুলো নির্দিষ্ট শিক্ষাক্ষেত্রকে প্রশাসনিকভাবে আলাদা করেছে এবং অধিদপ্তরগুলো আরও নির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
সব মন্ত্রণালয়ের অধীনে কি বিভাগ ও অধিদপ্তর থাকে?
সরকারি সাংগঠনিক কাঠামোতে এই বৈচিত্র্য দেখা যায়। মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে অধিদপ্তরের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সরকারি প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে। তাই কর্তৃপক্ষ, বোর্ড, কমিশন, কর্পোরেশন, একাডেমি বা ইনস্টিটিউটকে শুধু নাম দেখে অধিদপ্তর ধরে নেওয়া উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত অবস্থান জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট বা জাতীয় তথ্য বাতায়নের সাংগঠনিক তথ্য দেখা উচিত।
বর্তমানে বাংলাদেশে কতটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তর আছে?
বাংলাদেশে মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তরের সংখ্যা স্থায়ী নয়। নতুন প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি, পুনর্গঠন, একীভূতকরণ, নাম পরিবর্তন বা কার্যবণ্টনের পরিবর্তনের কারণে এই সংখ্যা সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই নির্দিষ্ট সময়ে দেশে কতটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অধিদপ্তর রয়েছে তা জানতে বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা দেখা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সম্পর্ক কী?
সরকারি প্রশাসন বোঝার ক্ষেত্রে মনে রাখা দরকার যে নীতি প্রণয়ন এবং সেই নীতিকে বাস্তবে কার্যকর করা একই ধরনের কাজ নয়। মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নীতি, পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, আবার অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ নির্ধারিত দায়িত্ব অনুযায়ী বাস্তবায়ন ও কার্যকরী পর্যায়ে কাজ করতে পারে। তবে “মন্ত্রণালয় শুধু নীতি তৈরি করে এবং অধিদপ্তর শুধু বাস্তবায়ন করে” এমন সরল ব্যাখ্যা সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত দায়িত্ব তার সরকারি কার্যবণ্টন ও প্রযোজ্য বিধানের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
সাধারণ নাগরিকের জন্য পার্থক্যটি জানা কেন দরকার?
এই কাঠামো জানা থাকলে সরকারি সেবা বা তথ্যের জন্য সঠিক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা সহজ হয়। কোনো নীতিগত বিষয় সম্পর্কে তথ্য খুঁজলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের ওয়েবসাইট কার্যকর হতে পারে। কিন্তু নির্দিষ্ট সেবা, নিবন্ধন, বাস্তবায়ন, পরিদর্শন বা বিশেষায়িত কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর বা দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাই বেশি প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিষ্ঠানের নাম দেখেই সেটি কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীনে রয়েছে তা যাচাই করলে প্রতিষ্ঠানের কাজ, সাংগঠনিক অবস্থান এবং সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ভালো ধারণা পাওয়া যায়।
মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তর চেনার সহজ উপায়
কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে সন্দেহ হলে শুধু নামের ওপর নির্ভর না করে বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি ওয়েবসাইট দেখুন। প্রথমে প্রতিষ্ঠানটি কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের অধীন তা শনাক্ত করুন। এরপর তার সাংগঠনিক কাঠামো, কার্যাবলি বা কার্যবণ্টন দেখুন। এতে প্রতিষ্ঠানটি মূলত নীতি প্রণয়ন, প্রশাসনিক সমন্বয়, তদারকি, কারিগরি কার্যক্রম নাকি বাস্তবায়ন ও সেবা প্রদানের সঙ্গে যুক্ত তা বুঝতে সুবিধা হবে।
মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তর সম্পর্কে ১০টি প্রশ্ন ও উত্তর
১. মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে প্রধান পার্থক্য কী?
মন্ত্রণালয় সাধারণত একটি বিস্তৃত সরকারি খাতের উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কাঠামো। বিভাগ সেই মন্ত্রণালয়ের বৃহৎ কার্যপরিধির নির্দিষ্ট অংশ পরিচালনার জন্য থাকতে পারে। তবে প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের অধীনে আলাদা বিভাগ থাকা আবশ্যক নয়।
২. অধিদপ্তর কি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকে?
অনেক অধিদপ্তর সরাসরি কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকে, আবার অনেক অধিদপ্তর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একটি বিভাগের অধীনে থাকে। প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত প্রশাসনিক অবস্থান জানতে সরকারি সাংগঠনিক তালিকা দেখা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
৩. বিভাগ কি অধিদপ্তরের চেয়ে উচ্চপর্যায়ের?
সাধারণ প্রশাসনিক কাঠামোতে একটি বিভাগের অধীনে এক বা একাধিক অধিদপ্তর থাকতে পারে। যেমন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে একাধিক অধিদপ্তর রয়েছে। তবে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো এক নয়, তাই নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি তথ্য যাচাই করা উচিত।
৪. সব মন্ত্রণালয়ের অধীনে কি একাধিক বিভাগ থাকে?
না। কিছু মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক বিভাগ রয়েছে, আবার কিছু মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে এমন বিভাজন নেই। সংশ্লিষ্ট খাতের কাজের পরিধি ও সরকারের নির্ধারিত সাংগঠনিক কাঠামোর ওপর এটি নির্ভর করে।
৫. অধিদপ্তরের প্রধান কাজ কী?
অধিদপ্তর সাধারণত নির্দিষ্ট বিষয়ে সরকারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন, বিশেষায়িত প্রশাসনিক কাজ, তদারকি, কারিগরি কার্যক্রম অথবা নাগরিকসংশ্লিষ্ট সেবা পরিচালনা করে। তবে প্রতিটি অধিদপ্তরের ক্ষমতা ও কাজ তার নিজস্ব আইন, বিধি এবং সরকারি কার্যবণ্টনের ওপর নির্ভরশীল।
৬. মন্ত্রণালয় কি সরাসরি নাগরিক সেবা দেয়?
কিছু ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নাগরিকের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। তবে অনেক দৈনন্দিন ও বিশেষায়িত সরকারি সেবা অধিদপ্তর, দপ্তর, কর্তৃপক্ষ, বোর্ড বা মাঠপর্যায়ের কার্যালয়ের মাধ্যমে দেওয়া হয়। তাই সেবার ধরন অনুযায়ী সঠিক প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করা দরকার।
৭. শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোন বিভাগ রয়েছে?
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ রয়েছে। এসব বিভাগের অধীনে নিজ নিজ কার্যক্ষেত্রের বিভিন্ন অধিদপ্তর ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান কাজ করে। সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে বলে সর্বশেষ তথ্যের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি ওয়েবসাইট বা জাতীয় তথ্য বাতায়ন দেখা উচিত।
৮. স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কোন বিভাগের অধীনে?
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের আওতায় কাজ করে। একই বিভাগের আওতায় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তিত হতে পারে বলে সর্বশেষ অবস্থান জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইট বা জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্য যাচাই করা উচিত।
৯. কর্তৃপক্ষ, বোর্ড ও কমিশন কি অধিদপ্তর?
অবশ্যই নয়। সরকারি প্রশাসনে কর্তৃপক্ষ, বোর্ড, কমিশন, কর্পোরেশন, ইনস্টিটিউট এবং অধিদপ্তর ভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান হতে পারে। জাতীয় তথ্য বাতায়নেও অধিদপ্তরের পাশাপাশি অনেক প্রতিষ্ঠানকে আলাদা “অন্যান্য” শ্রেণিতে দেখানো হয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানের নামের পরিবর্তে তার আইনগত ও সাংগঠনিক অবস্থান দেখা উচিত।
১০. সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঠিক সাংগঠনিক অবস্থান কীভাবে জানা যায়?
প্রথমে বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের তথ্য দেখা যেতে পারে। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সরকারি ওয়েবসাইটে সাংগঠনিক কাঠামো, কার্যাবলি ও কার্যবণ্টন যাচাই করুন। সরকারি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, নাম পরিবর্তন বা কার্যবণ্টনের কারণে সাংগঠনিক অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এ ধরনের তথ্যের ক্ষেত্রে সরকারি ও হালনাগাদ উৎসকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
তথ্য যাচাই সম্পর্কে
এই নিবন্ধের প্রশাসনিক তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সরকারি ওয়েবসাইট, বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে রুলস অব বিজনেস অনুসরণ করা হয়েছে। সরকারি সাংগঠনিক কাঠামো ও কার্যবণ্টন পরিবর্তিত হতে পারে, তাই সময়-সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে সর্বশেষ সরকারি প্রকাশনা যাচাই করা উচিত।
উপসংহার
সংক্ষেপে, মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও অধিদপ্তর একই সরকারি প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ হলেও তাদের ভূমিকা ও কাজের পরিধি এক নয়। মন্ত্রণালয় সাধারণত বৃহত্তর খাতের নীতি, পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের সঙ্গে যুক্ত, বিভাগ নির্দিষ্ট কর্মক্ষেত্রের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় করে এবং অধিদপ্তর সাধারণত বিশেষায়িত ও বাস্তবায়নমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তবে সব প্রতিষ্ঠানের কাঠামো একই নয়। তাই কোনো প্রতিষ্ঠানের সঠিক অবস্থান ও দায়িত্ব জানতে সংশ্লিষ্ট সরকারি উৎসের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা উচিত।