বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ভূমিকা পালন করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয় শুধু বিমানবন্দর বা বিমান পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়; বরং নিরাপদ বেসামরিক বিমান চলাচল নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মান অনুসারে নীতিমালা প্রণয়ন, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সমন্বয় এবং দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নয়নের মতো বিস্তৃত দায়িত্ব পালন করে।
অনেক চাকরিপ্রার্থী, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ নাগরিক জানতে চান এই মন্ত্রণালয়ের প্রকৃত দায়িত্ব কী, এর অধীনে কোন প্রতিষ্ঠানগুলো পরিচালিত হয় এবং দেশের উন্নয়নে এর অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এই নিবন্ধে সরকারি তথ্য, বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামো এবং বাস্তব কার্যক্রমের আলোকে বিষয়টি সহজ ভাষায় বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে, যাতে পাঠক একটি নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ ধারণা লাভ করতে পারেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় কী?
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, যার প্রধান দায়িত্ব দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল এবং পর্যটন খাতের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও তদারকি করা। এই মন্ত্রণালয় দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরার কাজ করে।
এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সব বিমান বা পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনা করে না। বরং নীতিমালা নির্ধারণ, বাজেট পরিকল্পনা, উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যক্রম সমন্বয় এবং সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুরো খাতের কার্যকারিতা নিশ্চিত করে। ফলে দেশের বিমান পরিবহন ও পর্যটন ব্যবস্থাপনা একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়।
এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব কী?
এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কেবল প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করে, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করে এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম তদারকি করে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক চুক্তি, নিরাপত্তা নির্দেশনা এবং সেবার মান উন্নয়নের বিষয়েও সমন্বয় করে থাকে।
এছাড়া পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়।
বিমান পরিবহন খাতে মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা
দেশের বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ, দক্ষ এবং আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এই মন্ত্রণালয় বিভিন্ন নীতিগত ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগ সম্প্রসারণের জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে এই মন্ত্রণালয় নীতিগত সহায়তা প্রদান করে। এর ফলে যাত্রীসেবা সহজ হয় এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।
বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব
নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করা এই মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিরাপত্তা মান অনুসরণ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে বিমান পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিমান নিবন্ধন, বিমান পরিচালনার অনুমোদন, উড্ডয়নযোগ্যতা যাচাই, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং যাত্রী সুরক্ষাসংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর ফলে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উভয় ধরনের যাত্রী নিরাপদ ভ্রমণের সুযোগ পান।
পর্যটন শিল্প উন্নয়নে মন্ত্রণালয়ের অবদান
বাংলাদেশে রয়েছে সমুদ্রসৈকত, পাহাড়, বনাঞ্চল, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসহ অসংখ্য পর্যটন সম্ভাবনা। দেশের প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদকে দায়িত্বশীল পর্যটনের মাধ্যমে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর জন্য বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে মন্ত্রণালয়।
পর্যটন শিল্পকে টেকসইভাবে এগিয়ে নিতে অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা, পর্যটনসেবা উন্নয়ন, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইতিবাচক প্রচারণা এবং দায়িত্বশীল ভ্রমণ সংস্কৃতি গড়ে তোলার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।
মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানসমূহ
এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান কাজ করে। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব আলাদা হলেও সবাই সমন্বিতভাবে দেশের বিমান ও পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিয়ে যায়।
- বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ: দেশের বিমানবন্দর পরিচালনা, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
- বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: বাংলাদেশের জাতীয় বিমান সংস্থা হিসেবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সেবা প্রদান করে।
- বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন: পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ এবং সরকারি পর্যটন সুবিধা পরিচালনা করে।
- বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড: বাংলাদেশকে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরার জন্য প্রচারণা পরিচালনা করে।
- বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড: আতিথেয়তা ও সেবা খাতের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় ভূমিকা রাখে।
- হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড: সরকারি মালিকানাধীন আতিথেয়তা ও আবাসনসেবা সম্পর্কিত কার্যক্রমে যুক্ত।
এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিমানবন্দর পরিচালনা, পর্যটন উন্নয়ন, জাতীয় বিমানসেবা পরিচালনা এবং পর্যটন বিপণনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বাস্তবায়ন করা হয়।
নাগরিকেরা কী ধরনের সেবা পেয়ে থাকেন?
সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী, পর্যটক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সংস্থাগুলো নানা ধরনের সেবা প্রদান করে। এর মধ্যে রয়েছে বিমানবন্দর ব্যবহার, যাত্রীসেবা, পর্যটন তথ্য, সরকারি পর্যটন সুবিধা, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন সেবায় ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় আবেদন, তথ্য সংগ্রহ এবং কিছু প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সহজ ও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। এতে সেবার স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
দেশের অর্থনীতিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অবদান
বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাত দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। উন্নত বিমান যোগাযোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ব্যবসায়িক ভ্রমণ সহজ হয়। অন্যদিকে পর্যটন খাত স্থানীয় উদ্যোক্তা, হোটেল, পরিবহন, হস্তশিল্প, খাদ্যসেবা এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এসব কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং সরকারি সমন্বয় নিশ্চিত করে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, আঞ্চলিক উন্নয়ন এবং বৈদেশিক যোগাযোগ শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
বর্তমান চ্যালেঞ্জ
বিশ্বব্যাপী বিমান ও পর্যটন খাত দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান অনুসরণ ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
একই সঙ্গে টেকসই পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে ধারাবাহিক উন্নয়ন দেশের বিমান ও পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সম্ভাবনা
বাংলাদেশ সরকার বিমান ও পর্যটন খাতকে আরও আধুনিক, নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। নতুন বিমানবন্দর অবকাঠামো, বিদ্যমান বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ, ডিজিটাল যাত্রীসেবা, পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ ভবিষ্যতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা সম্প্রসারণ, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করতে পারে। এর ফলে দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন ও উত্তর
১. বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ কী?
এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব হলো দেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন এবং পর্যটন খাতের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও তদারকি করা। এর পাশাপাশি বিমানবন্দর উন্নয়ন, নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করা, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সমন্বয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এই মন্ত্রণালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে কোন কোন প্রতিষ্ঠান কাজ করে?
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড এবং হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে দায়িত্ব পালন করে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাজ আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য দেশের বিমান ও পর্যটন খাতের উন্নয়ন।
৩. পর্যটন উন্নয়নে এই মন্ত্রণালয় কীভাবে কাজ করে?
পর্যটনকেন্দ্র উন্নয়ন, পর্যটন অবকাঠামো নির্মাণ, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রচারণা, বিনিয়োগ উৎসাহিত করা এবং পর্যটন সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে এই মন্ত্রণালয় পর্যটন শিল্পের বিকাশে কাজ করে।
৪. বিমান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়?
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ, বিমানবন্দরে আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিমান পরিচালনার অনুমোদন, প্রযুক্তিগত পরিদর্শন এবং নিরাপত্তা তদারকির মাধ্যমে যাত্রী ও বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
৫. সাধারণ মানুষ কী ধরনের সুবিধা পেয়ে থাকেন?
নাগরিকরা নিরাপদ বিমান ভ্রমণ, বিমানবন্দর সেবা, পর্যটন তথ্য, সরকারি পর্যটন কেন্দ্রের সুবিধা, অনলাইন তথ্যসেবা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। ডিজিটাল সেবার কারণে অনেক কাজ এখন আরও সহজ হয়েছে।
৬. দেশের অর্থনীতিতে এই মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিমান যোগাযোগ উন্নত হলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ হয়। অন্যদিকে পর্যটন শিল্প নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, স্থানীয় ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা করে এবং দেশের বৈদেশিক আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
৭. বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে কী উদ্যোগ নেওয়া হয়?
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং পর্যটন সুবিধা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রচার করা হয়। পাশাপাশি পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সেবার মান বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় যাতে বিদেশি পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও ভালো হয়।
৮. ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে বাড়ানো হচ্ছে?
অনলাইন তথ্যসেবা, ডিজিটাল আবেদন ব্যবস্থা, আধুনিক বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর মাধ্যমে নাগরিকদের জন্য দ্রুত, স্বচ্ছ এবং কার্যকর সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
৯. ভবিষ্যতে এই মন্ত্রণালয়ের প্রধান অগ্রাধিকার কী?
আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিমান পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, পর্যটন খাতের টেকসই উন্নয়ন, যাত্রীসেবার মান বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নিরাপদ ও আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ ভবিষ্যতের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে অন্যতম।
১০. কেন এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কে সাধারণ মানুষের জানা প্রয়োজন?
এই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সরাসরি বিমান ভ্রমণ, পর্যটন, কর্মসংস্থান, অর্থনীতি এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর দায়িত্ব ও সেবাসমূহ সম্পর্কে ধারণা থাকলে নাগরিকরা সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সেবা আরও সহজে গ্রহণ করতে পারেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য কোথায় পাওয়া যাবে?
এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সর্বশেষ তথ্য জানার জন্য সরকারি ওয়েবসাইট, সরকারি প্রজ্ঞাপন, বার্ষিক প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুসরণ করা উচিত। কারণ প্রশাসনিক কাঠামো, প্রকল্প বা দায়িত্ব সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ব্যবহারের আগে সরকারি উৎস থেকে যাচাই করা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।
এই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সাধারণ মানুষের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম শুধু বিমান ভ্রমণের সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। নিরাপদ যাত্রীসেবা, পর্যটন উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ করা এবং দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতেও এই মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা রয়েছে। ফলে সাধারণ নাগরিক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং বিনিয়োগকারী সবাই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এর কার্যক্রমের সুফল পেয়ে থাকেন।
উপসংহার
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের বিমান যোগাযোগ ও পর্যটন খাতের পরিকল্পনা, উন্নয়ন এবং সমন্বয়ের কেন্দ্রীয় দায়িত্ব পালন করে। নিরাপদ বিমান চলাচল নিশ্চিত করা, পর্যটন শিল্পের বিকাশ, আধুনিক অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি সব ক্ষেত্রেই এই মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হলে দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এর ইতিবাচক অবদান আরও বৃদ্ধি পাবে।
সরকারি তথ্য ও প্রশাসনিক কাঠামো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বিমান পরিবহন ও পর্যটন খাতের অধিকাংশ নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে এই মন্ত্রণালয় সমন্বয়কারী ভূমিকা পালন করে।



